বিষফোঁড়া কেন হয় ও কাদের ঝুঁকি বেশি? জেনে নিন ঘরোয়া সমাধান ও চিকিৎসা
ত্বকের একটি অত্যন্ত পরিচিত ও যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা হলো বিষফোঁড়া (Boil বা Furuncle)। ছোট একটি লাল গুটির মতো শুরু হয়ে এটি ধীরে ধীরে বড়, লালচে ও অত্যন্ত ব্যথায় পরিণত হয় এবং ভেতরে পুঁজ জমা হতে থাকে। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নিলে এটি ছড়িয়ে পড়া বা বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
বিষফোঁড়া আসলে কী এবং কেন হয়?
বিষফোঁড়া মূলত ত্বকের রোমকূপের গভীরে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ফল।
মূল কারণ: অধিকাংশ ক্ষেত্রে Staphylococcus aureus নামক ব্যাকটেরিয়া ত্বকের রোমকূপ বা ক্ষুদ্র কোনো কাটার মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
যেভাবে ছড়ায়: ব্যাকটেরিয়া রোমকূপে প্রবেশ করার পর সেখানে প্রদাহ শুরু হয়। শরীর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে শ্বেত রক্তকণিকা পাঠায়, যার ফলে লালচে ভাব, ফোলা ভাব এবং পরবর্তীতে পুঁজ তৈরি হয়।
কাদের বিষফোঁড়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি?
যে কারো শরীরে বিষফোঁড়া হতে পারে, তবে নিচের মানুষদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে:
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন।
ডায়াবেটিস রোগী: অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার কারণে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অতিরিক্ত ঘাম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: যারা বেশি ঘামেন বা ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার রাখেন না।
ঘনবসতি ও স্পর্শ: বিষফোঁড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি বা তাঁর ব্যবহৃত তোয়ালে, জামাকাপড় ঘন ঘন স্পর্শ করলে।
পুষ্টির অভাব: পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের অভাব থাকলে ত্বকের সুরক্ষাবলয় দুর্বল হয়ে পড়ে।
কীভাবে দূর করবেন বা এর প্রতিকার কী?
১. কখনোই ফোঁড়া গালবেন না বা টিপবেন না:
ফোঁড়া গাললে বা টিপে পুঁজ বের করার চেষ্টা করলে সংক্রমণ ত্বকের আরো গভীরে চলে যেতে পারে বা রক্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
২. গরম শেক দিন:
পরিষ্কার সুতি কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে দিনে ৩-৪ বার ফোঁড়ার ওপর ১০-১৫ মিনিট শেক দিন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ফোঁড়া দ্রুত ফেটে ভেতরের পুঁজ নিজে থেকেই বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে।
৩. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন:
রোগীকে নিয়মিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে। ফোঁড়া ও তার আশপাশের এলাকা পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন। ফোঁড়া স্পর্শ করার পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
৪. ব্যক্তিগত জিনিসপত্র আলাদা রাখুন:
আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, বিছানার চাদর, জামাকাপড় আলাদা ধোবেন এবং অন্যদের ব্যবহার করতে দেবেন না।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
ফোঁড়া যদি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সারে।
ফোঁড়ার কারণে তীব্র জ্বর উঠে যায়।
বিষফোঁড়া আকারে অনেক বড় হয়ে যায় বা মুখে/চোখের আশপাশে দেখা দেয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ফোঁড়া উঠলে ঘরে চিকিৎসা না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সচেতনতাই বিষফোঁড়ার সংক্রমণ রোধ করার প্রধান উপায়। ত্বকের সঠিক যত্ন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ সমস্যা থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।





